ওদের স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি দিলেন নাসার প্রধান নভোচারী জোসেফ আকাবা
আইসিটি টাওয়ারের বিসিসি মিলনায়তন। প্রবেশের মুখেই ৩৬ জুলাইয়ের বীর-শহীদ এপিটাফ ঘুরে মঞ্চে উঠলেন নাসা’র প্রধান নভোচারী জোসেফ এম আকাবা। কানায় কানায় পূর্ণ মিলনায়তনের দেড় তলা। সবাইকে অভিবাদন জানানোর পর। মঞ্চে দাঁড়িয়ে মিশে গেলেন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের সুরে। সেই সুরে মুগ্ধ হয়ে মহাকাশ শিক্ষায় বাংলাদেশকে মার্কিন মহাকাশ সংস্থার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিলেন আকাবা। উপস্থিত এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের সূত্র ধরে তিনি বলেন, দূতাবাসের সহায়তায় গার্টনার দীর্ঘ দিন ধরেই বাংলাদেশে মহাকাশ শিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। আমি একজন শিক্ষক। হ্যা, অবশ্যই আমি মার্কিন দূতাবাসের সহায়তায় আমার অভিজ্ঞতা এবং সরকারের আগ্রহে আমি অংশীজনদের নিয়ে বাংলাদেশে মহাকাশ গবেষণা ও নভোচারী হবার স্বপ্নপূরণের বাস্তব শিক্ষা নিয়ে কাজ করবো।
বললেন, গভীর অনুরাগ ও ক্রেজিনেস থাকলে বিজয় হবেই। সফলতা আসবেই। এলিয়েন নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে বললেন, আমি কোনো এলিয়েন দেখিনি। তবে ব্যাটম্যান ও স্পাইডার ম্যান দেখেছি। এসব কিছুই আসলে মজার।
বেসিস স্টুডেন্ট ফোরাম ও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মিট অ্যান্ড গ্রেট অনুষ্ঠানটি। বেসিস সহায়ক কমিটির চেয়ারম্যান রাফেল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান দূতাবাসের অর্থনৈতিক শাখার দায়িত্বরত প্রধান কর্মকর্তা জেমস স্মিথ গার্ডিনার; আইসিটি পলিসি অ্যাডভাজার ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ও আইসিটি বিভাগের যুগ্ম সচিব ইশরাত হাসান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন নাসা স্পেস অ্যাপ ২০২৪ জয়ী ময়মনসিংহ থেকে অংশ নেয়া ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ইকোরেঞ্জার্স দলনেতা ফুয়াদ হাসান।

এরপর উপস্থাপনায় প্রথমে উপস্থিতিদের মধ্যে কে পিৎজা পছন্দ করেন জানতে চান জোসেফ এম আকাবা। এরপর মহাকাশে তাদের পিৎজা আড্ডার ভিডিও উপস্থাপন করেন তিনি। বললেন, সর্বশেষ ছয় মাস আগে আইএসএস এর পথে যাত্রা শুরু করেছিলাম কাজাখস্তান থেকে। সেখানে কাটিয়েছি ৩০৬ দিন। সেখানে বৈরী পরিবেশে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমাদরা নিয়মিত ব্যয়াম করেছি। দৌড়েছি, ভারউত্তলন করেছি। সেখানে যেকোনো ভারী জিনিস সহজে পুশ করে বহন করা যায়। আমরা সেখানে একটি গাছও রোপন কেরেছি।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মহাকাশের সাতজনের সংসার আকাবা বললেন, আমরা সেখান থেকে প্রতিদিন ভিডিও কলে যুক্ত হতাম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। প্রশ্নকর্তা কিশোর মৃণালকে নাসার মঞ্চে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এর আগে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে মহাকাশ উদ্দীপনা ও দেশের সমস্যা সমাধানে নেতৃত্বগুণ লাভের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জোসেফের বাংলাদেশ সফর আমাদের জন্য মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে পরিবেশ সুরক্ষায় তোমাদের আহ্বান জানাই। কাজের প্রতি অনুরাগ থাকলে সফলতা আসবেই।
বাংলাদেশে মহাকাশ প্রেমীদের সম্বোধন করে জেমস স্মিথ গার্ডিনার বলেন, সবারই নীল স্যুটের প্রতি আকর্ষণ রয়েছে। তাই আজ তাকে প্রশ্ন করেই জেনে নাও মহাকাশ ভ্রমণের রহস্য। সে কিন্তু শিক্ষকও। তাই তার কাছ থেকে শিখতে পরাটাও হবে মনোমুগ্ধকর।
বক্তব্যে ইশরাত হাসান বললেন, মিলিটারি রেজিমের বিরুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম। ইতিহাস ভোলা যায় না। জুলাইয়ে আমাদের নতুন করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এবার আমাদেরকে অবজেক্টিভ হতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে জুলাই ৩৬ এ শিক্ষার্থীদের বহনকরা বাংলাদেশের পতাকা জেমস এম আকাবার হাতে হস্তান্তর করে দেয়া হয়।
ইমরুল কায়েস







